জুমার নামাজের সূচনা যেভাবে।। ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন
সপ্তাহের শুক্রবার দিনটি মুসলিম জাহানের নিকট পবিত্র ও গুরুত্ববহ একটি দিন। হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে এই দিনেই জান্নাতে একত্র করেছিলেন এবং এই দিনে মুসলিম উম্মাহ সাপ্তাহিক ঈদ ও ইবাদত উপলক্ষে মসজিদে একত্র হয় বলে দিনটাকে ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন বলা হয়।
জুমার নামাজ ফরজ হয় প্রথম হিজরিতে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবাতে অবস্থান শেষে শুক্রবার দিনে মদিনা পৌঁছেন এবং বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছে জোহরের ওয়াক্ত হলে সেখানেই তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।
হিজরতের পরে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে নবুওয়তের দ্বাদশ বর্ষে মদিনায় নাকীউল খাজিমাতে হজরত আসআদ বিন যুরারাহ (রা.)-এর ইমামতিতে সম্মিলিতভাবে শুক্রবারে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সেটা ছিল নফল নামাজ। ইসলাম ধর্ম মতে মুসলমানদের সপ্তাহের সেরা দিন শুক্রবার অর্থাৎ জুমার দিন। জুমা নামে পবিত্র কোরআনে একটি সূরা আছে। ইসলাম ধর্ম মতে এইদিনে মহান আল্লাহতায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন।
শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সপ্তাহের এদিনে জুমার খতিব উম্মতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা ও সমাধানমূলক উপদেশ দেবেন তাঁর খুতবায়।
হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালক বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য (ফরজ)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না।
এইসকল কারণে জুমার নামাজ ও দিনটি আমাদের কাছে সন্মানের। জীবনে বহু জুমা আল্লাহ সুযোগ দিয়েছেন পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনায় আদায়ের। এখানে ভিন্নরকম অনুভূতি নিয়ে এই নামাজ আদায় করি। আজও পবিত্র মসজিদুল হেরেমে জুমা আদায়ের ইচ্ছা রয়েছে ।। হে আল্লাহ আমাদের তুমি কবল কর। অনেকেই দোয়া চেয়েছেন জানি না আমার মত একজনের দোয়া কবুল হবে কিনা-তবে তোমার নবীর উসিলায় সকলের সুস্থতা দাও, ক্ষমা কর, সন্মান নিয়ে নিরাপদ থাকার তৌফিক দাও।। আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের তুমি নিরাপদ রেখো।। মেহেরবান মা-বাবাকে তুমি দেখে রেখো!! আমাদের দেশকে তুমি হেফাজত কর।। আমিন।
পবিত্র কাবা শরীফ।
১৫ অক্টোবর।। ২০২১।। শুক্রবার





Comments