top of page

আল্লামা কাশগরী।। বিস্মৃত এক নক্ষত্র।।‌‌ মোঃ জেহাদ উদ্দিন



পুরান ঢাকায় কত ইতিহাস যে ঘুমিয়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই। আজ ১ এপ্রিল শুক্রবার অফিসিয়াল কাজে গিয়েছিলাম পুরান ঢাকায়। একটু সময় বের করে ঘুমন্ত কিছু ইতিহাসের সান্নিধ্যে গিয়েছিলাম। প্রথমেই কাশগরী মহাশয়ের কথা বলছি। চৈনিক অত্যাচারের শিকার হয়ে শিশু বয়সে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। জীবন বাঁচাতে মা একটি কাফেলার সাথে শিশু সন্তানকে ছেড়ে দেন। মানবসৃষ্ট দুর্যোগের স্রোতে ভাসতে ভাসতে সেই শিশুটি একসময় আশ্রয় নেন আজকের এই বাংলাদেশ, জগদ্বিখ্যাত হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু সারা জীবন তার কানে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়েছে তার মায়ের সেই হাহাকার-আমার আব্দুর রহমান! আব্দুর রহমান!! কোথায় যাবে আমার আব্দুর রহমান!!! আল্লামা আব্দুর রহমান কাশগরী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর জন্ম ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে কাশগর, পূর্ব তুর্কিস্তান (বর্তমান শিনজিয়াং, চীন) এ। ইন্তেকাল ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায়। আজিমপুর কবরস্থানে শায়িত আছেন। তার বাবা ছিলেন পূর্ব তুর্কিস্তানের একজন স্থানীয় শাসক। কমিউনিস্ট অভ্যুত্থানের পর অনেকের সাথে তার বাবা, বড় ভাই ও দুই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের খামার ও অন্য সব সহায়সম্পদ দখল করে নেয়া হয়। শোকে তার মা মানসিক ভারসাম্য অনেকটা হারিয়ে ফেলেছিলেন। এই অবস্থায় তার এক মামার পরামর্শে মুসলিমদের একটি গেরিলা দলের সহায়তায় উদ্বাস্তুদের একটি দলের সাথে তিনি ভারতে চলে আসেন। তবে তার মা তার ভাইবোনদের ফেরার আশা করে কাশগর থেকে যান। আবদুর রহমান কাশগরীর বয়স ছিল এসময় চৌদ্দ-পনেরো বছর।

কৈশোরে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আসার পর আবদুর রহমান কাশগরী লখনৌয়ের নদওয়াতুল উলামার এতিমখানায় আশ্রয় পান। তিনি এখানে হাদিস, তাফসির, আরবি সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষালাভ করেছেন। নদওয়াতুল উলামায় উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করার পর লখনৌ সফরে আসা আবুল কাশেম ফজলুল হকের অনুরোধে ১৯৩৮ সালে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন। এখানে তিনি হোস্টেল সুপারের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খানসহ উপমহাদেশের বহু নামজাদা ব্যক্তিবর্গ।

আবদুর রহমান কাশগরী কবি ও লেখক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তার রচিত আরবি আয-যাহারাত কাব্যগ্রন্থে দেশাত্মবোধ এবং প্যান ইসলামিজম চেতনার কথা রয়েছে। তিনি আল-মুফিদ নামে উচ্চমানের একটি আরবি-উর্দু‌-বাংলা অভিধান প্রণয়ন করেছিলেন। আল-হাদিকা নামে তার লেখা একটি আরবি গদ্য ও পদ্যের সঙ্কলন রয়েছে। তার লিখিত আরবি সাহিত্যের অনেক বই মাদ্রাসায় পাঠ্য ছিল। তার অপ্রকাশিত রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে মাহক্কুন নাকদ, শের ইবনি মুকবিল, ইযালাতুল খাফা আল খিলাফাতিল খুলাফা, ফারহাঙ্গে কাশগরী।

আব্দুর রহমান কাশগরী চিরকুমার ছিলেন। শিক্ষকতা পেশাকে তিনি জীবিকা হিসেবে নেন এবং আমৃত্যু এই দায়িত্বে ছিলেন। মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রদেরকে তিনি সন্তান হিসেবে স্নেহ করতেন। নতুন বই কেনা ছিল তার শখ। এছাড়া তিনি বিড়াল পালন করতেন।


(সহযোগিতা: উইকিপিডিয়া)

Comments


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page