মনমোহন দত্ত।। অধ্যাপক জাহিদুল কবির
২৪ জানুয়ারি, ১৮৭৭, ১০ মাঘ ১২৮৪ বঙ্গাব্দ।
মনমোহন দত্ত- শুভ জন্মদিন।

মৃত্যু- ৫ অক্টোবর, ১৯০৯ সাল ২০ আশ্বিন ১৩১৬ বঙ্গাব্দ।
মনমোহন দত্ত-লোকশিল্পী, সাধক, গীতিকার।
তিনি ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে।
মলয়া সংগীতের জনক, মরমী সাধক, কবি, বাউল, সমাজ সংস্কারক ও অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। মনমোহন দত্তের লেখা গানগুলো সুর দিয়েছেন ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আফতাব উদ্দিন।
তার পিতার নাম ছিল পদ্মনাথ দত্ত ও মাতার নাম ছিল হর মৌহিনি। তাদের পারিবারিক পেশা ছিলো কবিরাজি। মনমোহন দত্তের পূর্বপুরুষরা সোনার গাঁও ভট্টগ্রামের জমিদার ও এ অঞ্চলের প্রধান সাঁজওয়াল ছিলেন। সাঁজওয়াল বলতে সে সময় যারা বাদশাহ্দের সৈন্য সামন্ত যোগান দিত তাদের বোঝানো হয়েছে। পরে ঐ বংশেরই এক পরিবার সাতমোড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করে।
মনমোহন দত্তের দর্শন, চিন্তাভাবনার পরিচয় তার গানেই পাওয়া যায় । সমকালীন নানা কুসংস্কার, সামাজিক বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা, বিভিন্ন কুপ্রথার বিরুদ্ধে তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ তুলে ধরেন। তার গানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির অলৌকিক সর্ম্পকও খুব সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে। তার গান নিয়ে শিল্পকলা একাডেমী, দেশের বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় সংস্থা নানা সময়ে গবেষণা, স্মরণনভা, সেমিনার অায়োজন করে। চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারের অনুসারীরা মনমোহনের ভাব সঙ্গীতের দ্বারা বেশ প্রভাবিত। তার স্বল্প জীবনকালে প্রায় হাজার খানেক গান, কবিতা এবং আধ্যাত্মিক সাধন প্রণালী রচনা করেছেন। এসকল গান ও কবিতাকে তাঁর ভক্তগণ মনুষত্ত্ব অর্জনের দিশা, পথ বা দিকনির্দেশনা বলে থাকেন।
সংগীত ও সুরের সাধনার মাধ্যমে জাগতিক ও মহাজাগতিক শান্তির পথানুসন্ধানী এই ক্ষণজন্মা কবির জন্মদিনে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
লেখক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক।





Comments